পদত্যাগ করলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান

১৪ আগষ্ট, ২০২৪ ১৭:১৩  

পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পদত্যাগপত্রটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এতে মহিউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, ‘বর্তমানে আমি অসুস্থ এবং আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম। যে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি।”

শিক্ষার্থী-জনতার বিক্ষোভের সময় আইসিটি বিভাগের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মৌখিক নির্দেশে বিটিআরসি চেয়ারম্যান হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধের দায় যখন তার নাম প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রকাশ হলো এর একদিন পরেই তিনি পদত্যাগ করলেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পাড়ি দেয়ার পর থেকে তিনি আর বিটিআরসি-তে অফিস করেননি।

এ নিয়ে জানতে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর থেকে মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বিটিআরসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে তিনি সংস্থাটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলার সময় গত ১৭ জুলাই রাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ও ১৮ জুলাই রাতে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ দিন পর ২৩ জুলাই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত পরিসরে ফিরে আসে। আর ১০ দিন পর ২৮ জুলাই মোবাইল ইন্টারনেট চালু হয়। কিন্তু বন্ধ ছিল ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক। ৩১ জুলাই বেলা দুইটার পর থেকে বাংলাদেশে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো চালু করা হয়। আবার ২ আগস্ট মোবাইল নেটওয়ার্কে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের আগের দিন ৪ আগস্ট আবারও মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। ৫ আগস্ট সকালে কয়েক ঘণ্টা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পর আবার মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু করা হয়। দেশে সব ধরনের টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে বিটিআরসি। ইন্টারনেট বন্ধ রাখায় সরকারি সংস্থা হিসেবে সমালোচনার মুখে পরে সংস্থাটি।